দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের এডমন্টনে দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশি ও ভারতীয় বাঙালিদের বিভিন্ন সংগঠন পূজার আয়োজন করেছে। কেউ পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী পূজা করছেন, আবার স্থানীয় বাস্তবতায় কোনো কোনো সংগঠন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আয়োজন করছে পূজা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
বাংলাদেশ বা ভারতের মতো পাড়া-মহল্লা কিংবা বাড়ির আঙিনায় নয়, এডমন্টনে দুর্গাপূজার আয়োজন হচ্ছে কমিউনিটি সেন্টার ও বিভিন্ন হলে। পূজার পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রীতিভোজ ও বাঙালিদের মিলনমেলা।
এবারও দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে অ্যালবার্টা বঙ্গ সোসাইটি। দক্ষিণ এডমন্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংগঠনটির পূজার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা প্রস্তুতের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজও চলছে।
অ্যালবার্টা বঙ্গ সোসাইটির সভাপতি বিকাশ তালুকদার বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তারা পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী দুর্গাপূজার আয়োজন করছেন। পূজা উপলক্ষে প্রতিমা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য নিয়মিত মহড়া চলছে।
প্রবাসে দুর্গাপূজা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রতিমা নিয়ে রয়েছে আলাদা বাস্তবতা। বাংলাদেশ বা ভারতের মতো প্রতিবছর নতুন প্রতিমা তৈরি করে পূজা শেষে বিসর্জন দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে বিদেশ থেকে প্রতিমা তৈরি করে আনতে হয় এবং একই প্রতিমা দিয়ে একাধিক বছর পূজার আয়োজন করা হয়।
বিকাশ তালুকদার জানান, অন্য দেশ থেকে অর্ডার দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে আনা হয়। ভারত থেকে একটি দুর্গাপ্রতিমার সেট আনতে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হয়। পূজা শেষে বিসর্জনের সুযোগ না থাকায় একই প্রতিমা পরবর্তী বছরগুলোতেও ব্যবহার করা হয়।
এডমন্টনে পূজার সময় নির্ধারণেও স্থানীয় বাস্তবতার প্রভাব রয়েছে। কর্মদিবসে পূজার আয়োজন করলে ভক্তদের অংশগ্রহণ কমে যায়। এ কারণে অনেক সংগঠন সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনি ও রোববারে পূজার আয়োজন করে। তবে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত অ্যালবার্টা বঙ্গ সোসাইটি পঞ্জিকার তিথি মেনেই পূজা করে আসছে।
বিকাশ তালুকদার বলেন, কর্মদিবসে পূজা আয়োজন করায় অংশগ্রহণ কিছুটা কম হলেও তিথি অনুযায়ী পূজা আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসেননি। সংগঠনটি বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে ভারতীয় বাঙালিরাও এ আয়োজনে যুক্ত হয়েছেন।
অ্যালবার্টা বঙ্গ সোসাইটির পাশাপাশি এডমন্টনে দুর্গাপূজার আয়োজন করছে বাংলাদেশ ও ভারতের বাঙালিদের সংগঠন ‘কৃষ্টি’। সংগঠনটির আয়োজনকে এডমন্টনের অন্যতম বড় দুর্গাপূজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ১৯৭৯ সাল থেকে এডমন্টনে সক্রিয় এডমন্টন বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনও নিজস্ব সূচি অনুযায়ী দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে।
পূজার আয়োজনকে ঘিরে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাই নয়, বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রীতিভোজ। কমিউনিটি কিচেনে তৈরি হচ্ছে খিচুড়ি, পায়েসসহ নানা পদের ভোগ। গান, নাচ, নাটক ও আড্ডায় মুখর হয়ে উঠছে পূজামণ্ডপ।
প্রবাসী বাঙালিদের কাছে দুর্গাপূজার এসব আয়োজন ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে এ ধরনের আয়োজন।